ঝিনাইদহ-৪ আসনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণায় স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। এই সিদ্ধান্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সন্তুষ্ট থাকলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও বিভাজন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খাঁন। এ সময় মির্জা ফখরুল জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ উপজেলা ও ঝিনাইদহ সদরের চার ইউনিয়ন) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন রাশেদ খাঁন।

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে অন্য দল থেকে আসা একজনকে প্রার্থী করায় তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বুধবার থেকেই প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং এমনকি কাফনের কাপড় পরে গণ পদত্যাগের ঘোষণাও দেন কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ ধানের শীষ প্রতীক দেখেই ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, অনেকের অভিযোগ—রাশেদ খাঁন কালীগঞ্জের রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বিষয়টিকে দেখছেন কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে। জেলা সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, দলীয় সমঝোতার অংশ হিসেবেই রাশেদ খাঁন বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং নির্বাচনে তারা তার পক্ষেই কাজ করবেন। ভোট শেষে তিনি আবার গণঅধিকার পরিষদে ফিরবেন বলেও প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি নির্বাচনে দাঁড়ালে রাশেদ খাঁনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের দলবদল ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।