জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয়পুরহাট জেলা শাখায় নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে—দলের প্রধান সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. ফিরোজ আলমগীরকে মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ২৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা শাখার ৯১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম কিবরিয়া, আর সদস্য সচিব পদে পুনরায় ফিরোজ আলমগীরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নতুন কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।

ফিরোজ আলমগীর গত ১৩ অক্টোবর পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি তখন দলের সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম ও কিছু সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধের অসঙ্গতি তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে, দলের মধ্যে চিহ্নিত আওয়ামী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তি ও নীতি-বিরোধী কার্যক্রম তাকে হতাশ করেছিল। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন ধরে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেননি।

তবে, নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে তার পুনরায় অন্তর্ভুক্তি জেলা নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ওমর আলী বাবু জানান, “কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই পদক্ষেপ নিয়েছে। পদত্যাগ করা নেতাকে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে ৪০–৪৮ জন নেতা পদত্যাগ করতে পারেন।”

এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে মো. ফিরোজ আলমগীর বলেন, “কেন্দ্রীয় কমিটি আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। আমার কিছু দাবি সমাধান হয়েছে। নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি আমি জানি না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ জেলা কমিটির অভ্যন্তরে বিভক্তি এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে। নেতাকর্মীদের মানসিকতা ও দলের অভ্যন্তরীণ সঙ্গতি কতটা অটুট থাকবে তা আগামী দিনে নির্ভর করবে পুনর্নির্ধারিত কমিটির কার্যক্রমের ওপর।