১৯৭১ সালে বয়স তখন সবে ১৬ কিংবা ১৭। রাজবাড়ীর টগবগে কিশোর আবু তালেব তখন মেট্রিক পরীক্ষার্থী। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়ন, বিহারিদের সহিংসতা আর মায়ের এক সাহসী সিদ্ধান্ত তার জীবনকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে—মুক্তিযুদ্ধে।
ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাজবাড়ী ছিল বিহারি অধ্যুষিত এলাকা। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর তার মা বুঝতে পেরেছিলেন, সেখানে ছেলের জীবন নিরাপদ নয়। তখন মা বলেছিলেন—“বাবা, এখানে থাকলে তোকে মেরে ফেলবে, চলে যা।” নিজের সর্বস্ব বলতে মায়ের কাছে ছিল একটি স্বর্ণের বিছা, প্রায় ৩০ ভরি। সেই বিছাই ছেলের হাতে তুলে দিয়ে দেশমাতৃকার পথে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
সেই বিছা বিক্রি করে ভারত যান আবু তালেব। সেখানে গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। প্রথমে রাজবাড়ীতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ না পেয়ে কুমারখালিতে যোগ দেন। সেখান থেকেই পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।
তিনি জানান, যুদ্ধের সময় নিজের চোখে দেখেছেন বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, নারী নির্যাতন, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। এসব দৃশ্য আর সহ্য করতে না পেরে তরুণ বয়সেই অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হন। তার ভাষায়, “এই দৃশ্য দেখে কোনো যুবক ঘরে বসে থাকতে পারে না।”
যুদ্ধের এক স্মরণীয় ঘটনার কথা তুলে ধরে আবু তালেব বলেন, এক রাজাকার নারিকেল গাছে উঠে মুক্তিবাহিনীর ওপর গুলি চালাচ্ছিল। পরে ব্রাশফায়ারে তাকে হত্যা করা হয়। আরেক ঘটনায় বেলগাছি রেলসেতু এলাকায় বিহারিদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।
বর্তমানে আবু তালেব রাজবাড়ী সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস—“স্বাধীনতা একবারই আসে। এ স্বাধীনতার মূল্য নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।”