চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল–ভোলাহাট–গোমস্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী, রুয়েট ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদুল হক মাসুদের সমর্থকরা শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতেই মশাল মিছিল বের করে প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো দাবি জানান।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণের পর মিছিলটি আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় নেতারা বর্তমান মনোনয়ন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের ফলকে বৈধতা দিয়ে সংসদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমিনুল ইসলাম দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছিলেন। এরপর চার বছর এমপি থাকাকালে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। হামলা-মামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদেরও কোনো সহযোগিতা করেননি। অথচ এমন একজনকে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা দলের প্রকৃত কর্মীদের গভীরভাবে আহত করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় ঘরে ক্ষোভ ও বিভক্তি এড়াতে অবিলম্বে আমিনুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও একই সুরে জানান, দলের প্রতি নিষ্ঠাবান এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীকে বারবার মনোনয়ন দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। তারা লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন বলছে, প্রার্থী পরিবর্তনের এই দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।