মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দুইটি সীমান্ত দিয়ে মোট ৬০ জন বাংলাদেশিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের হাতে তুলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কাথুলী ও কাজিপুর সীমান্তে পৃথক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। ফিরিয়ে আনা ব্যক্তিদের মধ্যে নারী-পুরুষ, শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যরা রয়েছেন।
কাথুলী সীমান্তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন-৪৭ এর কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার মিজানুর রহমান। অপরদিকে, ভারতের তেহট্ট থানার ৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তেইনপুর কোম্পানির কমান্ডার এসি আনচ কুমারসহ একটি প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।
এই সীমান্ত দিয়ে ৩০ জনকে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি জানায়, তাদের মধ্যে রয়েছে ১৫ জন নারী, ১০ জন পুরুষ এবং ৫ জন শিশু। তারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের নদীয়া ও সংলগ্ন এলাকায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে আটক হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হলো।
অন্যদিকে, কাজিপুর সীমান্তে একইদিন একটি পৃথক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির কাজিপুর বিওপির সুবেদার মো. শাহাবুদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের ইন্সপেক্টর এবিসন ফ্রাঙ্ক নেতৃত্ব দেন। এই বৈঠকে ৮ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং ৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি জানায়, প্রত্যাবাসিত প্রতিটি ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানি ইসরাইল বলেন, “ফেরত আসা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। জীবিকার সন্ধানে তারা সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিলেন। আইনি কার্যক্রম শেষে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
মানবিক বিবেচনায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াবে বলে আশা স্থানীয় প্রশাসনের।