নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। দুই মাসের পরকীয়ার জের ধরে স্বামী সুমন খলিফাকে (৩৫) সরিয়ে দিতে স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২২) প্রেমিক ইউসুফকে (৪২) নিয়ে সাজান পরিকল্পিত হত্যার ফাঁদ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
পুলিশ সুপার জানান, এটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত হত্যা। সোনিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় ইউসুফ সুমনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরিকল্পনায় আরও কয়েকজন সহযোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ঘটনার সূত্রপাত ৩০ নভেম্বর রাতে। স্ত্রীকে নিয়ে পঞ্চবটি অ্যাডভেঞ্চার পার্কের সামনে একটি ক্লাবে গান গাইতে গিয়েছিলেন সুমন। রাত ১১টার দিকে তিনি ক্লাবের বাইরে বের হতেই আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে চর কাশিপুর মধ্য নরসিংহপুর এলাকার রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। মাথা, গলা ও শরীরজুড়ে ছিল গভীর ক্ষতচিহ্ন।
তদন্তে জানা যায়, অভাবের সংসারে ক্লাবে গান গেয়ে আয় করতেন সোনিয়া। সেখানে পরিচয় হয় ইউসুফের সঙ্গে এবং সৃষ্টি হয় প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি বুঝতে পেরে সুমন প্রতিবাদ করলে দাম্পত্যে কলহ বাড়ে। এরপরই দুজনে মিলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে জালকুড়িতে বসে চূড়ান্ত বৈঠক করে ইউসুফ, তার শ্যালক আব্দুর রহমান, মামুন (পলাতক), বিল্লাল, আলমগীর ও নান্নু। পরে দুই অটোরিকশায় ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী মামুন ভেতরে গিয়ে ‘টাকা দেওয়ার’ কথা বলে সুমনকে বাইরে ডেকে আনে।
সুমনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংহপুরের নির্জন স্থানে। সেখানে আব্দুর রহমান সুইচগিয়ার দিয়ে প্রথম আঘাত করে। সুমন পালাতে চাইলে ইউসুফ ও বিল্লাল তাকে আটকে ফেলে দেয়। এরপর মামুন চাপাতি দিয়ে গলা ও শরীরে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর অস্ত্রগুলো পাশের ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ সুপার জানান, কল রেকর্ড বিশ্লেষণে প্রথমে সোনিয়া ও ইউসুফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হলে একে একে অন্যরাও আটক হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সোনিয়া, ইউসুফ, আব্দুর রহমান, বিল্লাল, আলমগীর ও নান্নুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মূল ঘাতক মামুনকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও সুইচগিয়ার।