কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান তার সাম্প্রতিক মন্তব্য দিয়ে এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তুলেছেন। ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “জামায়াতকে ভোট দিলে আপনারা আমার মৃতদেহই পাবেন।” তার এই উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলের ওই কর্মী সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তারা যদি ভোট পায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। আপনারা কি তাদের ভোট দেবেন? দেবেন?”—এমন প্রশ্ন ছুড়ে তিনি কর্মীদের আবেগে নাড়া দেন।

ফজলুর রহমান দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান ও কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু লোক আমাকে এমনভাবে বকা দিয়েছে, যেটা সাধারণ মানুষ বুঝবে না। আমার বড় অপরাধ—আমি জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ করেছি।”

বিএনপি প্রার্থী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াতপন্থী একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। “তারা বলে, ১৯৪৭ সালে নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, ২০২৪ সালে নাকি শেষ হয়েছে। একাত্তরে ‘গণ্ডগোল’ ছাড়া কিছুই হয়নি—এমন মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে। তিন দিন অপেক্ষা করেছি কেউ প্রতিবাদ করবে বলে; কিন্তু যখন দেখলাম নীরবতা নেমে এসেছে, তখনই আমি বললাম—‘রাজাকারের বাচ্চারা, আমরা এখনো বেঁচে আছি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইলে তোমাদের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ হবে।’”

সমাবেশে বিএনপির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তার সহধর্মিনী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, সাবেক সহ–সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস. এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ঠাকুরসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মাঝে নতুন ধরনের রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে। ফজলুর রহমানের বক্তব্য তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করলেও বিরোধী শিবিরে সমালোচনার ঝড় বইছে।