দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর স্বপরিবারে দেশে ফিরছেন। তার আগমণকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনগুলো বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এতে অংশ নিতে ঢাকা যাচ্ছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার নেতাকর্মী।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, “তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার ঘরে ফেরা নয়, এটি দেশের ইতিহাসের এক মহামিলনমেলার জন্ম দেবে। কোটি মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখা যাবে। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মী, মহানগর ও উপজেলা অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৪০–৫০ হাজার নেতা-সমর্থক ঢাকায় অংশ নেবেন।”

জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এনামুল হক আকন্দ লিটন জানান, ময়মনসিংহ মহানগর ও সদর উপজেলা থেকে ধানের শীষ প্রার্থীর নেতৃত্বে প্রায় ৭–৮ হাজার নেতাকর্মী বিশেষ বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে ঢাকা যাবে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার নেতাকর্মীও অংশ নেবেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন জানিয়েছেন, ১০টি বগি ও একটি পাওয়ারকারসহ একটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ রয়েছে। এটি ২৫ ডিসেম্বর ভোর ৫টায় ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে এবং সকাল ৯টায় পৌঁছাবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, “তারেক রহমানের আগমন ইতিহাসে নতুন নজির স্থাপন করবে। একজন নির্বাসিত মজলুম নেতার ঘরে ফেরার এই মুহূর্তে নেতাকর্মীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসে মুখরিত। জেলার ৬টি উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।”

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, “২৫ ডিসেম্বর হবে ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীর সঙ্গে দেশের মানুষের মিলনমেলা হবে। এটি হবে সত্যিকার অর্থে ইতিহাসের মুহূর্ত।”

উল্লেখ্য, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ মহানগরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছেন এবং শহর ও গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেছেন।