আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ঘরে ফিরছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। ভোটকে ঘিরে এই ঘরমুখো ঢলে ঘাট এলাকা এখন বেশ ব্যস্ত ও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা মানুষ মোটরসাইকেল, বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে ফেরি পার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটছেন। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রী ছিল গাদাগাদি করে দাঁড়ানো। অনেকের হাতে ব্যাগ, কারও কোলে শিশু—সবাই যেন একটাই লক্ষ্য সামনে রেখে ফিরছেন, ভোট দেওয়া।

সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিনের অবকাশ পেয়েছেন অনেক চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। এই সুযোগেই শহর ছাড়ছে গ্রামে ফেরার ঢল, যার বড় প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়।

ঢাকা থেকে পাংশাগামী যাত্রী মনিরুজ্জামান শোভন বলেন, “অনেকদিন পর নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এজন্য পরিবারসহ বাড়ি যাচ্ছি। আশা করি, মানুষ এবার যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে বেছে নেবে।” তিনি আরও জানান, পরিবারের সবাইকে ভোট দিতে উৎসাহিত করাই তার উদ্দেশ্য।

দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, সোমবার রাত থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘাট এলাকায় বড় ধরনের যানজট নেই। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অনেক ফেরি স্বল্পসংখ্যক গাড়ি নিয়েই দ্রুত ছেড়ে যাচ্ছে, যাতে চাপ সামাল দেওয়া যায়।

তবে ভিড়ের সুযোগে কিছু যানবাহনচালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা, কোথাও কোথাও আরও বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভোটের টানে ঘরে ফেরার এই স্রোত দৌলতদিয়া ঘাটকে পরিণত করেছে এক ব্যস্ত জনসমুদ্রে, যেখানে মানুষের প্রত্যাশা—ভোট যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ।