সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী দারুল উলুম কওমীয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রামে গ্রামে মা-বোনদের তালিমি ক্লাসে বোঝানো হচ্ছে, আপনাদের জামায়াতকে ভোট দিতে হবে। জামায়াত রসুলের পথে হাঁটে, আর আমরা শয়তানের পথে এটি বিশ্বাস করছেন আমার মা-বোনরাও। জামায়াত এখানে মুনাফিকি করছে।”
টুকু আরও বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যায় তারা সক্রিয় ছিল। “মেয়ে মানুষের ইজ্জত লুট হয়েছে। আমরা শুধু ভাতার জন্য নয়, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু আজকে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য বোঝে না নতুন প্রজন্ম। জামায়াত ধর্মের আড়ালে নির্বাচনকে ফরজ বলে প্রচার করছে। এটি একটি বড় মুনাফিকি।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ হয়ে উঠত না। অথচ কিছু মানুষ সেই ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে।” তার বক্তব্যে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রভাবের সঙ্গে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উঠান বৈঠকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল রাব্বি উথানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। নেতারা দলের কর্মসূচি ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
টুকুর এ মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামীলীগ-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জেলায় ভোটারদের সচেতন করতে এই ধরনের উঠান বৈঠক ও বক্তব্যের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতার ক্ষেত্রে এই ধরণের সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।