জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, সমমনা মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় বৃহত্তর জোট ঘোষণা কিছুদিন পিছিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জোটের রূপরেখা ও বিস্তৃতি আরও বড় হওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় শহরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, “খুব শিগগিরই বিস্তৃত পরিসরে এ জোট ঘোষণা করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রথম ধাপের মনোনয়ন তালিকা শনিবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনও সম্ভাবনাকে এখনই উড়িয়ে দিচ্ছি না। দেশের ও জনগণের স্বার্থে এলায়েন্সকেন্দ্রিক আলোচনা চলবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে- তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”

সারজিস আলম আরও বলেন, পঞ্চগড় এনসিপি কমিটিতে জাতীয় পার্টির তিন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। “আমরা চেষ্টা করেছি, যাদের ভালো ইমেজ, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে- তাদের নিয়ে কাজ করতে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণআন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের কোনও ইউনিটে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা হয়নি। তবে আগের রাজনৈতিক দলগুলোর রীতি, শৃঙ্খলা ও নীতির সঙ্গে একমত না হওয়া অনেকেই এখন আমাদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান দেখে নতুন রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়েছেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করে আগামীর প্রত্যাশিত পঞ্চগড় গড়ে তুলব।”

তিনি দাবি করেন, “গত তিন মাসে পঞ্চগড়ের প্রায় ২০০ মসজিদ ও মন্দিরে ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ আনা হয়েছে। গত ২০ বছরে বড় বড় এমপি-মন্ত্রীরাও এত বড় বরাদ্দ আনতে পারেননি।”