ফেনীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে বার্ষিক পরীক্ষা, তবে শিক্ষকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে অভিভাবকদের সহায়তায়। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়।

পরিদর্শনে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকরা অফিসকক্ষে অবস্থান কর্মসূচিতে ব্যস্ত। প্রধান শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র ও খাতা বিতরণ করছেন, আর পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন অভিভাবক ও অফিস সহকারীরা। শিক্ষক না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন বুঝতে না পেরে নিজ উদ্যোগেই উত্তর লিখতে বাধ্য হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, তিন দফা দাবির কোনো অগ্রগতি না হওয়া এবং তিন শিক্ষক নেতাকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফেনীর ৫৫৯টি বিদ্যালয়ের ৩ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

ফেনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না মজুমদার বলেন, “দীর্ঘ চাকরিজীবনেও আমরা কোনো পদোন্নতি পাইনি। বৈষম্যের শিকার হয়েই আন্দোলনে নামতে হয়েছে।”
আরেক সহকারী শিক্ষক নাজমুল ইসলাম জানান, “ভোটগ্রহণ থেকে টিকাদান—সব কাজই করি, তবু ১০ বছরেও টাইমস্কেল পাইনি। দাবি তুলতেই সহকর্মীরা লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন।”

অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। রাবেয়া সুলতানা নামের এক অভিভাবক বলেন, “শিশুরা প্রশ্নই ঠিকমতো বুঝতে পারছে না। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

ফেনী পাইলট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ দিবা খানম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যেভাবেই হোক পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। “অভিভাবকদের সহায়তা ছাড়া সম্ভব হতো না,” বলেন তিনি।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতেই প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন। “অভিযোগ পেলে বিশৃঙ্খল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি যোগ করেন।