পঞ্চগড়ে সকাল থেকে উজ্জ্বল রোদ থাকলেও শীতের কামড় কিন্তু পুরোপুরি অনুভূত হচ্ছে। সূর্যের উপস্থিতি থাকলেও বাতাসে শীতের ছোঁয়া কাটেনি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও শীতের প্রকোপ কমার আভাস নেই।
এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৯ শতাংশ। ভোরের দিকে বইতে থাকা ঠান্ডা বাতাস মানুষের গায়ে কাঁপন ধরালেও রোদের উষ্ণতায় ধীরে ধীরে কমতে থাকে সেই তীব্রতা। তবে ঠান্ডার অনুভূতি এখনও যথেষ্ট স্পষ্ট—বিশেষ করে খোলা জায়গায় ও ছায়াযুক্ত এলাকাগুলোতে শীত বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ছিল ৬৩ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রায় ওঠানামা চলায় পঞ্চগড়বাসীর শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় “রোদ আছে, কিন্তু গায়ে ঠিকঠাক লাগছে না।”
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বরং সময় যত এগোচ্ছে, উত্তরাঞ্চলে শীত তত বাড়তে পারে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, “শীত ধীরে ধীরে নামছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত আরও তীব্র হতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করারও সম্ভাবনা রয়েছে।”
দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে সকালে ও রাতে ঠান্ডা বেড়েই চলছে। স্থানীয় বাজারে শীতের পোশাকের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। ছোট শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাও নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসন।
উত্তরের এই সীমান্ত জেলা সাধারণত দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রার তালিকায় নিয়মিতই থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও শীতের শুরুতে পঞ্চগড়েই বইছে দেশের প্রথম কনকনে হাওয়া।