ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগে মোট ২ হাজার ৫৬১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছয় স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রংপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইন মঙ্গলবার পুলিশ লাইন্সে নির্বাচনী ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাব সেক্টর ও সেক্টর ভাগে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি এবং ৩১৫টি কেন্দ্রে বডিওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
রংপুর জেলায় মোট ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে ৪,৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১২১টি এবং আট উপজেলায় ৯৫টি কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোতে অতীতে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ বা ভোট প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
সেনাবাহিনীও প্রতিরোধে প্রস্তুত। নির্বাচনের দিনে রংপুরের প্রত্যন্ত কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটলে হেলি ড্রপের মাধ্যমে কমান্ডো দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। এছাড়া চার জেলায় ৩,০০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শফিকুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ডগ স্কোয়াড, চেকপোস্ট, মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশাপাশি র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীও নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে এবং তাদের বডিওর্ন ক্যামেরার লাইভ মনিটরিং করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চার জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে জনবহুল শহরাঞ্চল পর্যন্ত নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।