পটুয়াখালীর আলোচিত সাবেক পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী মারজিয়া আখতার সুমা, বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ এবং আজাদের স্ত্রী আকলিমা বেগম রুমার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাগুলো দায়ের করেন। মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রথম মামলায় সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী মারজিয়া আখতার সুমাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মহিউদ্দিন জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। তার স্ত্রী মারজিয়া স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত ২ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৬০ টাকা মূল্যের সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন এবং তাকে সহযোগিতা করেছেন।
দ্বিতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে মহিউদ্দিনের বড় ভাই ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ এবং তার স্ত্রী আকলিমা বেগমকে। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ তার জ্ঞাত আয়ের বাইরে ২৬ কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার ৬০৫ টাকা মূল্যের বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তার স্ত্রী আকলিমা স্বামীর অর্জিত ১ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৩৭ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রেখে তাকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, “চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
মহিউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নতুন এই সম্পদ মামলাগুলো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।