ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাঁশের লাঠির আঘাতে সালথা থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ মুকুল আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া গ্রামে। হামলার অভিযোগে স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ খানকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে সাত সদস্যের একটি দল নিয়ে আগুলদিয়া গ্রামে যান এএসআই মোহাম্মদ মুকুল। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তিনিই। পুলিশ গ্রামে পৌঁছালে খোরশেদ খান নিজেকে এলাকার ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশের উপস্থিতির কারণ জানতে চান। এএসআই মুকুল তাকে অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করলে তিনি আপত্তি জানান এবং ওই আসামিকে গ্রেপ্তার না করার দাবি তোলেন।

একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে খোরশেদ খানের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশ জানায়, খোরশেদ দাবি করেন, যাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ এসেছে তিনি তার আত্মীয় এবং তাকে ধরা যাবে না। উত্তেজনার একপর্যায়ে খোরশেদ খান হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে এএসআই মুকুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

সঙ্গে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে খোরশেদ খানকে আটক করে সালথা থানায় নিয়ে যান। আহত এএসআই মুকুলকে উদ্ধার করে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের এক সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। এটি গুরুতর অপরাধ।” তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক খোরশেদ খানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ওসি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”