সিরাজগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে শাহাদাত হোসেন (৪৫) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, আটক হওয়ার পর ডিবি পুলিশ রাতভর তাকে নির্যাতন করে এবং ৫ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে ‘মামলা দিয়ে ফাঁসানোর’ হুমকি দেয়। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, শাহাদাত একজন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ছিলেন এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়া হরিপুর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাতকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। এরপর তার স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। জহুরুল ইসলাম, নিহতের বড় ভাই, অভিযোগ করেন শাহাদাতকে দেখার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমি ভাইকে দেখে বুঝেছিলাম সে আর বাঁচবে না। তার শরীর ফুলে গেছে, আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে ডিবির সদস্যরা উল্টো আমাদের ধমক দিয়েছে।

পরিবারের দাবি ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপরও ভয়ভীতি দেখানো হয়। জহুরুল আরও বলেন, অটোরিকশা চুরির অভিযোগের কথা বলা হলেও বাদীর নাম পর্যন্ত জানাতে পারেনি তারা। পরে দুপুরে জানানো হয়, ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের স্যাকমো কবির হোসেন জানান, পুলিশ সদস্যরা শাহাদাতকে হাসপাতালে আনেন এবং ভর্তি করার ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ওসি সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেননি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহাবুবুর রহমান দাবি করেন, ডিবি হেফাজতে মৃত্যু বলা যাবে না। তিনি একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ছিলেন এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে, প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানানো হবে।