বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে আবারও হরিণ শিকারের ঘটনা ধরা পড়েছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২১ কেজি হরিণের মাংস, হরিণের মাথা ও পা এবং বিপুল পরিমাণ শিকারের ফাঁদসহ দুই শিকারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আটক দুই শিকারি হলেন— খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা আজিবর মোল্লার ছেলে মো. আবু মুসা এবং জিয়ারুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান হোসেন। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করে হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের নলিয়ান সংলগ্ন মুচির দোয়ানী খালে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে শিকারিদের আটক করা হয়।
অভিযানকালে শিকারিদের কাছ থেকে সাড়ে ২১ কেজি হরিণের মাংস, একটি হরিণের মাথা, চারটি পা এবং প্রায় ৬০০ মিটার লম্বা হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়। এসব ফাঁদ সাধারণত বনজুড়ে পেতে রাখা হয়, যা হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জব্দকৃত আলামত এবং আটক শিকারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতন ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।