ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সব জায়গা থেকেই জোরালোভাবে উঠে আসে।
লক্ষ্মীপুরে চকবাজার থেকে উত্তাল মিছিল বের হয়ে উত্তর তেমুহনীতে সমাপ্ত হয়। বক্তারা বলেন, “হাদিকে গুলি মানে জুলাই আন্দোলনের ওপর হামলা।”
কুমিল্লা শহরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ টমছমব্রিজ থেকে কান্দির পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। স্লোগানে মুখর ছিল চারদিক—“হাদীর ওপর গুলি কেন, প্রশাসন জবাব চাই।”
মাদারীপুরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য।
কুড়িগ্রামে বিজয় স্তম্ভ থেকে বের হওয়া মিছিল শাপলা চত্বরে সমাবেশে পরিণত হয়, পরে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালান। বক্তারা বলেন, “হাদির মাথায় গুলি মানে জনগণের কণ্ঠরোধ।”
জয়পুরহাটে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে বের হয় বিশাল মশাল মিছিল।
রাজবাড়ীতেও প্রেসক্লাব থেকে শহীদ স্মৃতি চত্বরে মশাল মিছিল আয়োজন করা হয়।
কুষ্টিয়া ও কুমারখালীতে আলাদা বিক্ষোভে নেতারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন—অপরাধীরা ধরা না পড়লে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঝাউতলা থেকে সোনালী ব্যাংক মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
ঝিনাইদহে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জোট ও খুলনায় বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি ও বগুড়াতেও সমাবেশে একই দাবি—“গণতন্ত্র রক্ষায় হামলাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতেই হবে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ হয়।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসমাইল ফেসবুকে লেখেন, “হাদির পরাজয় মানে ন্যায়ের পরাজয়।”
ঠাকুরগাঁওয়ে রাতে বিক্ষোভকারীরা শহর প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় সমাবেশ করেন। নেতারা বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—পরিকল্পিত ভয় দেখানোর অপচেষ্টা।
এদিকে কুড়িগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।