ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকার বৈধতা হারাবেন।”

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত এক আনন্দ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও টার্গেট কিলিং শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বিরোধী নেতাদের হত্যা করতে মাঠে নেমেছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদি আমাদের সহযোদ্ধা—ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা। আজ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। গতকাল তফসিল ঘোষণার পরের দিনই একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর গুলি চালানো হয়েছে—এ ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা।”

বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও জুলাই বিপ্লবের নেতাদের নিষ্ক্রিয় করতে একটি আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ চক্রান্ত সক্রিয় হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “ভারতীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচন বানচালের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে যাতে গণঅসন্তোষ দমন করা যায়। ওসমান হাদির ওপর হামলা তারই অংশ। সরকার এখনো নিরাপদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

সভায় জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল রাজন, যুব অধিকার পরিষদের নেতা মিশন আলী এবং পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি রাসেল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।