গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণ ঝরে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানাধীন আড়িখোলা এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় এক শিশু।

নিহতরা হলেন—কমলা বেগম (৫৫), তার পুত্রবধূ সাদিয়া আক্তার (২৫) এবং নাতনি অনাদি (১১)। নিহতদের বিস্তারিত ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় তিনি সম্প্রতি মেয়ের বাড়ি কালীগঞ্জে আসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি তার পুত্রবধূ ও নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন ধরে হাঁটতে বের হন।

এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী আরেকটি ট্রেন একই এলাকায় ক্রসিং করে। ট্রেন দুটির একটির নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই কমলা বেগম ও সাদিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা নাতনি অনাদিকে জীবিত ভেবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, রেললাইন ধরে হাঁটার সময় অসাবধানতাবশত তারা ট্রেনের নিচে পড়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা রেলপথের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।