বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শুরার সদস্য ডা. সুলতান আহমদ বলেছেন, বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থী এখনও সাধারণ জরিপ ও পর্যবেক্ষণে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের তরুণ প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তাদের সেক্রেটারি জেনারেলের সামনে হিমশিম খাচ্ছে। তারেক রহমান সাহেব ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী। সেখানে আমাদের এক তরুণ ডাক্তার, আমার চেয়ে ১৫ বছরের জুনিয়র, তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাটা তাদের জন্য কঠিন।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন ডা. সুলতান আহমদ।
তিনি বলেন, “এখন তাদের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নের কথা ভুলে গেছে। স্বাভাবিক বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তাদের নাম এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তাদের মনোবল কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।”
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ডা. সুলতান বলেন, “তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘আই হ্যাব এ প্ল্যান’ বলেছিলেন। আমরা মনে করেছিলাম দেশবাসীর জন্য তিনি আশার বার্তা আনবেন। কিন্তু দুই দিন আগে সিলেটে তার বক্তৃতা অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে গিয়েছে। জাতীয় নেতার পক্ষে এমন বক্তব্য শোভন নয়। তিনি জামায়াতকে দোষারোপ করেছেন, যা ইতিহাসের সঙ্গে মেলে না।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের ঘটনাও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তুলে আনা হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে, শুধুমাত্র জামায়াত নয়, দেশের অন্যান্য দলও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চেষ্টা করেছে। সেটা ভুল কি শুদ্ধ তা আমরা জানি না, কারণ তখন আমরা সেখানে ছিলাম না। তবুও বিএনপির নেতৃত্ব জামায়াতের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন।”
জনসভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “পৃথিবীর অনেক বড় দল, সংস্থা ও সরকার জামায়াতের সঙ্গে দেখা করেন। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস ছোট হলেও এই মান সম্মান আমাদের প্রাপ্য। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও দেশকে উন্নত করার লক্ষ্যে জামায়াতের নেতৃত্বই নির্ভরযোগ্য। এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
এই জনসভায় স্থানীয় সমর্থকরা ডা. সুলতানের বক্তব্যে উৎসাহ প্রকাশ করেন এবং দলের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান।