লক্ষ্মীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাওনা টাকা ও মাদক সংশ্লিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে ইয়াবা সেবনের ফাঁদে ফেলে মুগুর দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ফজলে রাব্বি বাবু (২১) নামে ওই যুবককে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অপরজন এখনো পলাতক।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং মাদক ও অর্থনৈতিক লেনদেন এর মূল কারণ।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাব্বি নিখোঁজ হন। পরদিন তার বাবা চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. শাহেদ ও মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে চিহ্নিত করা হয়। পরে রাজধানীর দোহার এলাকা থেকে শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদ হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, রাব্বি, শাহেদ ও মাহফুজ একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতেন। মাহফুজের কাছে রাব্বির কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা আদায়ের জন্য তারা পরিকল্পনা করে রাব্বিকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল বিক্রি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা সেবনের কথা বলে রাব্বিকে একটি নির্জন বাগানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মাহফুজ মুগুর দিয়ে রাব্বির মাথায় আঘাত করে। পরে শ্বাসরোধ করে নিশ্চিত করা হয় তার মৃত্যু।
হত্যার পর মরদেহ গুম করতে নানা কৌশল নেয় তারা। একপর্যায়ে রাব্বির মরদেহ উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের একটি টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ধ্বংস ও প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, শাহেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত মুগুর উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামি মাহফুজকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।