১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ার পর থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে প্রেস ক্লাব যশোর–এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পাঁচজন নবনির্বাচিত এমপি উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল। তিনি দাবি করেন, শার্শা উপজেলার বেলতা গ্রামে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর, সদর উপজেলার সুজলপুরে ককটেল বিস্ফোরণ এবং এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এছাড়া চৌগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের দলীয় সমর্থনের অভিযোগে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়। মণিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলাতেও অনুরূপ ঘটনার অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলার বায়সা গ্রামে এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ তোলা হয়। তিনি বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামে বাড়িঘর ভাঙচুর ও এক সাবেক জনপ্রতিনিধির মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

অধ্যাপক গোলাম রছুল বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে হামলা-ভাঙচুর বন্ধ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা বা মামলা দল সমর্থন করে না।