ভালো চাকরির প্রলোভনে প্রবাসে নিয়ে বিক্রি ও নির্যাতনের ঘটনায় দুই মানবপাচারকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

বুধবার (১২ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল আহমেদ আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরা উপজেলার উত্তর কেরুয়া এলাকার মোশারেফ হোসেনের ছেলে শাহ ইমরান সাগর (৪৫) এবং হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া (৩৭)।

মামলার নথি অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকার নবীন ফরাজী (২৮) নামের এক যুবককে ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ দুবাই পাঠান শাহ ইমরান সাগর। সেখানে পৌঁছানোর পর নবীনকে বাচ্চু মিয়া মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর নবীনকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

নির্যাতনের পর এক প্রবাসীর সহায়তায় নবীন দেশে ফিরে আসেন এবং ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট দুইজনকে আসামি করে বরিশাল মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শিহাব উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচারক সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আদালত আরও নির্দেশ দেন, জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগী নবীন ফরাজীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এই রায় মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।