স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো দুর্নীতি। এটি শুধু অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা হ্রাস করে।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো কারারক্ষী ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বে অবহেলা করে, তাহলে শুধু আইন ভাঙে না, রাষ্ট্র ও আইনের ভিত্তিও দুর্বল হয়।
মঙ্গলবার সকালে কাশিমপুর কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি কারারক্ষীদের মনে করিয়ে দেন, তারা কোনো ব্যক্তির বা দলের নয়, রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তাদের একমাত্র দায়িত্ব হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
প্রশিক্ষণার্থীদের উপর তিনি বলেন, “আপনারা সরকারী দায়িত্বে থাকবেন, জনসেবার লক্ষ্য সর্বাগ্রে থাকবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলাও দৃঢ় হবে।”
সমাপনী কুচকাওয়াজে নবীন কারারক্ষীরা সুসজ্জিত বাদক দলের তালে মাঠ প্রদক্ষিণ, শারীরিক কসরত এবং অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষা প্রদর্শন করে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহল আলম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার, উপ-কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
কুচকাওয়াজ শেষে প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি পিটি, ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ, লিখিত পরীক্ষা এবং সর্বমিলিয়ে ছয়টি ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বের উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত করা হয়।
মোটকথা, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কারারক্ষীরা শুধু তাদের শারীরিক ও দলগত দক্ষতা প্রদর্শন করেন না, তারা দায়িত্ব, সততা এবং জনসেবার গুরুত্বকেও শক্তভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।