মাদারীপুরের শিবচরে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বাবার সঙ্গে নিজের সাবেক স্ত্রীর পরকীয়ার অপবাদ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাবাকেই কুপিয়ে হত্যা করেছেন ছেলে। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে আদালতে দোষ স্বীকার করে এ লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন অভিযুক্ত মো. ফারুক (২৭)।
পুলিশ জানায়, নিহত মতিউর ইসলাম (৫২) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ফারুকের স্ত্রীকে নিয়ে কিছুদিন আগে পরিবারে কলহ দেখা দেয়। অভিযোগ, মতিউর ও ফারুকের ভাই দুজনেই তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায়। এতে ফারুকের সঙ্গে স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে থাকেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাজের খোঁজে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফারুক মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে আসেন। তারা একসঙ্গে রসুন বপনের কাজ শুরু করেন। রোববার রাতে খাবার শেষে একই বিছানায় ঘুমাতে যান বাবা-ছেলে। রাত ১০টার দিকে ফারুক দেখে তার বাবা সাবেক পুত্রবধূর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছেন। বিষয়টি তার রাগে আগুন জ্বেলে দেয়।
রাত সোয়া ১২টার দিকে ফারুক ঘুমন্ত বাবার মাথায় ও শরীরে ধারালো কোদাল দিয়ে একের পর এক আঘাত করে। পরে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত হলে লাশের পাশে বসে সিগারেট জ্বালিয়ে ধূমপান করতে থাকে সে। শব্দ শুনে বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মতিউরকে পড়ে থাকতে দেখে এবং ফারুককে নির্লিপ্ত বসে থাকতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদালসহ আলামত জব্দ করে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, “বাবার এমন বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করতে পারিনি, তাই হত্যা করেছি।” আদালত স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘাতক ছেলেটি আগে থেকেই অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল।