বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার পথে নরসিংদীতে হামলার শিকার হয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় একটি বাস ভাঙচুর করা হয় এবং চালক গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার আমতলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী যাতায়াত পরিবহনের একটি বাস রাজধানীর পূর্বাচল অভিমুখে যাত্রা করছিল। রাতের নিরিবিলি সময়ে বাসটি আমতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাসটির কাচ ভেঙে যায় এবং চালককে মারধর করা হয়।

আহত চালককে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিএনপির গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কুহিনর মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বাসটি মনোহরদীর ড্রেনের ঘাট এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের চালকের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। পরে শিবপুরের আমতলা এলাকায় এসে ওই পিকআপ ভ্যানের চালক ও তার সহযোগীরা বাসটি আটকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।