খাবার তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদনের অভিযোগে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড স্বর্ণখোলা এলাকায় এক মিষ্টান্ন কারখানার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে নিষিদ্ধ পণ্য ও বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন খাবার উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার আদেশ দেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
অভিযান চলাকালে ‘নিউ মুসলিম সুইটস অ্যান্ড কনফেকশনারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মিষ্টি তৈরির কাজে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা এবং খাদ্যদ্রব্যে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
একই সময় স্বর্ণখোলা এলাকার ‘পিক অ্যান্ড পে’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ এনার্জি ড্রিংক রেড বুল মজুত রাখার পাশাপাশি বিদেশি পণ্যে আমদানিকারকের বৈধ স্টিকার না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত উভয় প্রতিষ্ঠানই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্যান্য খাবার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি দল কাজ করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।