সরেজমিনে দেখা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা এলাকায় কংস নদের পাড়ে শুকনো স্থানে পড়ে আছে বোট দুটি। গায়ে লেখা ‘নেত্রকোনা বিরিশিরি-১’ ও ‘নেত্রকোনা বিরিশিরি-২’। স্থানীয় ইকবাল হোসেন ও কল্যাণ সরকারের বাড়ির পেছনে গাছপালার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে নৌযানগুলো। সেখানে কোনো চালক বা পাহারাদার নেই, আছে শুধু একটি সাইনবোর্ড।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সিলেটসহ দুর্যোগপ্রবণ জেলা হিসেবে নেত্রকোনায় এই রেস্কিউ বোটগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শুরুতে মাস্টাররোলে একজনকে দেখভালের জন্য রাখা হলেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তিনিও চলে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কল্যাণ সরকার ও ইকবাল হোসেন জানান, বোট দুটি এখন এলাকাবাসীর বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই বোটের ভেতরের কক্ষ মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়। সেখানে মলমূত্র ত্যাগের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া শিশুরা খেলার জায়গা পাচ্ছে না। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারের এত দামি দুটি নৌযান এভাবে ফেলে না রেখে হাওর বা যেখানে সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটে, সেখানে কাজে লাগানো যেত। তাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হতো না। অথচ এখানে মাটিতে পড়ে থেকে বোটের বডি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে গত প্রায় ১ বছর ৮ মাস ধরে বোটগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘এটি বহুমুখী কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া একটি প্রকল্প ছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বোট দুটি পাওয়া যায়। আমি আসার আগে একটি ও পরে আরেকটি বোট বুঝে পাই। কিন্তু প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং চালক ও গার্ড না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এগুলো পরিত্যক্ত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এগুলোকে এভাবে ফেলে না রেখে নিলামে দিলেও হয়তো রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় হতো।’ নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পাওয়া বোট দুটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এগুলো সচল করা সম্ভব হবে।’