পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার উপকূলীয় মহিপুর এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে শুধু মহিপুর থানাতেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মহিপুরের পরিচিত দর্জি শ্রী শিশির দাস (৪২) এবং আলীপুর কালাচাঁনপাড়া এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী উবাচো রাখাইন (৩৮)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে খাজুরা এলাকার নুরজামাল ফকির ও মিশ্রীপাড়ার হাবিব নামের দুজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ১৩ অক্টোবর মহিপুরে একদিনেই চারজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী সন্তান জন্মদানের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণ হারান।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, “মহিপুর, আলীপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে। আমরা মাইকিং, জনসচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছি, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল মেডিকেলে অন্তত অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি আছেন। আলীপুরের এক পরিবারের তিন সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ভর্তি আছেন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওসার হামিদ বলেন, “আমরা প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা হয়। সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের পানি জমে থাকা ড্রেন, অপরিচ্ছন্ন বাজার ও আবাসিক এলাকার পরিবেশ ডেঙ্গু বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।