রাজবাড়ীর পাংশার কলিমহর এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে সম্রাট বাহিনীর প্রধান অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার একজন সহযোগী সেলিমকে দুটি অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “রাত পৌনে ১১টার দিকে হোসেনডাঙ্গা এলাকায় জনতার গণপিটুনিতে সম্রাট মারা যান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্রাট দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর সম্প্রতি নিজ এলাকায় ফিরে আসে। তার এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে এবং চাঁদাবাজি চালানোর জন্য তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে একটি বাড়িতে চাঁদার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে গেলে বাড়ির লোকজন তার সমালোচনা করে এবং ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ সমবেত হয়ে তাকে গণপিটুনিতে জড়ায়।
ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম আরও জানান, গণপিটুনিতে সম্রাট নিহত হওয়ার সময় তার সহযোগী সেলিম একটি পিস্তল ও ওয়ান শুটারগানসহ ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে থানায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সম্রাট হোসেন ডাঙ্গার অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস চালিয়ে আসছিল। তার হঠাৎ প্রত্যাবর্তনের পর এলাকার মানুষদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিহত সম্রাট ও সহযোগীর সম্পৃক্ততা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনায় এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সম্রাট বাহিনীর দাপট ও চাঁদাবাজি গ্রামবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।