টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারীদের জন্য নির্ধারিত ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে রায়হান কবির ইমন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও অন্যান্য চিকিৎসকদের দাবির মুখে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার সন্ধ্যায়। সার্জারি বিভাগের একটি ওয়াশরুমে প্রবেশ করে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক একটি কলমের মতো বস্তু সন্দেহজনক মনে করেন। কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন সেটি স্পাই ক্যামেরা। ক্যামেরাটি হাতে নিয়ে বের হওয়ার সময় ইমন সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযোগ অনুসারে, ইমনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ থাকলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। সর্বশেষ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক লিখিতভাবে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনা জানার পর অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ইমনকে হাসপাতালের ভেতরে অবরুদ্ধ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং অভিযুক্ত ইমনকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক জানান, কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, ইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।