ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হঠাৎ করেই বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যের শেষাংশে দেওয়া স্লোগানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত একটি অংশের প্রতিবাদ ও পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তার বক্তব্য শেষ হতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একটি দল প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই মঞ্চের সামনে হট্টগোল শুরু হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুবসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহের এক সংগঠকের নেতৃত্বে কয়েকজন মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন পরে জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরতেই বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, বক্তব্যের সময় তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা হয়, যার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সংগঠনের এক নেতা বলেন, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করেন, তবে সংবর্ধনার মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য বা নির্দিষ্ট স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখা প্রয়োজন।
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সাময়িকভাবে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসে শালীনতা ও সহনশীলতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।