চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগে নজর কাড়ছেন। মাত্র ছয় কর্মদিবসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি নিলেন মানবিক উদ্যোগ হাটহাজারীতে পাঁচজন শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিয়ে শেষ করলেন তাদের দীর্ঘ ঘরবন্দী জীবন।

মঙ্গলবার হাটহাজারী উপজেলা পরিদর্শনকালে তিনি এই হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। উপকারভোগীদের একজন মো. বেলাল, বয়স দশ বছর। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী এই শিশুকে এতদিন তার মা-ই কোলে করে গোসল, শৌচাগার কিংবা বাইরে নিয়ে যেতেন। অর্থাভাবে হুইলচেয়ার কেনা সম্ভব হয়নি তাদের। ডিসির উপহার পেয়ে বেলালের পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

একই উপজেলার কুমদ বন্ধু ধরের মেয়ে গীতা ধর (৩২) বছরের পর বছর ঘরবন্দী ছিলেন। পা কেটে ফেলার পর থেকে তিনি আর বাইরে যেতে পারতেন না। গীতার ছেলে জানালেন, “আজ ডিসি স্যার হুইলচেয়ার দিয়েছেন। মা এখন নিজেই চলাফেরা করতে পারবেন।”

এ ছাড়া মো. আনোয়ারের মেয়ে হাসিনা আক্তার, জালাল আহমদের জন্মগত প্রতিবন্ধী মেয়ে ফাহিমা আক্তার এবং সত্তারঘাট মানিক এলাকার মো. খোকনও পেয়েছেন চলাচলের নতুন সম্ভাবনা। ফাহিমার ভাই বলেন, “এখন থেকে ঘরের ভেতর বা বাইরে বোন নিজেই চলতে পারবে।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন দপ্তর, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। মঙ্গলবারও তিনি ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা-স্বাস্থ্য সামগ্রী ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করেন।

এ ছাড়াও তিনি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীতে পোনা অবমুক্ত করা, উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা এবং বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এর মধ্যেও তিনি ভুলে যাননি মানবিক দায়িত্ব—উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাঁচজন অক্ষম মানুষের হাতে নিজ হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেন। তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

দিনের শেষে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের পথও খুলে দেন। এর আগে বাঁশখালীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুচকে ঘর নির্মাণের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেও তিনি মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেন।

হুইলচেয়ার বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।