সাতক্ষীরার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল (বিপিএম) বলেছেন, নাগরিকেরা যেন ভয় বা বাধা ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন—এটি নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব। “কে কাকে ভোট দেবেন কিংবা কে জিতবেন–হারবেন, তা পুলিশের বিবেচ্য নয়,”—বলেন তিনি।

রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসপি আরেফিন জুয়েল বলেন, বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র নতুন যাত্রা শুরু করেছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা যে ‘ঐতিহাসিক নির্বাচন’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার বাস্তবায়নে পেশাদার ও নিরপেক্ষ পুলিশি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা পেলে সাতক্ষীরায় একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব,”—যোগ করেন তিনি।

এ সময় অতীতের নির্বাচন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেগুলোর বেশিরভাগই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই এবার মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা দুর্বলতার অভিযোগ না ওঠে।

নির্বাচনী দায়িত্বের পাশাপাশি জেলা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থান জানান এসপি। তিনি বলেন—
“সাতক্ষীরায় অবৈধ লেনদেন, অনলাইন জুয়া, চুরি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, যানজট ব্যবস্থাপনা ও শ্যামনগর–সুন্দরবন এলাকায় যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতা ও পুলিশ পরস্পরের পরিপূরক শক্তি, তাই সবক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা কাম্য।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।