সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় প্রতিবেশী বদিউজ্জামান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ মোট ১০ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ছয়জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চারজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামের আবু সাঈদ, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে মনির হোসেনসহ একই এলাকার সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মন্ডল, শফিকুল ইসলাম, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে নিহত বদিউজ্জামান নিজ গ্রামের দবির মন্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে তিন শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশী আবু সাঈদ ওই জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। জমি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালে আসামিপক্ষ বদিউজ্জামানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বদিউজ্জামান ও আব্দুস ছাত্তার মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য বদিউজ্জামানকে দায়ী করে আসামিপক্ষ, যার ফলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

২০১১ সালের ২৪ জুন সকালে জমির কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন বদিউজ্জামান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে ময়নাকান্দি গ্রামের একটি খেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া কামারখন্দ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।