ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কচুয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রকাশ্য ছুরিকাঘাতের ঘটনায় প্রাণ হারান ২২ বছর বয়সী মুক্তার মিয়া। তিনি কাঠালকান্দি গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তারের দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দুই পরিবারে উত্তেজনা শুরু হয়। মুক্তারের পরিবার বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়ের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকে দুপক্ষের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুক্তার মিয়া চাতলপাড় বাজার থেকে অটোরিকশায় কচুয়া যাচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন যুবক তার অটো থামিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে মুক্তারের হাত, পা ও পেটে একাধিক আঘাত লেগে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মুক্তারের বড় ভাই আক্তার হোসেন বলেন, “প্রেমের সম্পর্কের কারণে আগেও হুমকি ছিল। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা করে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।”

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদ আহাম্মদ জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের কাছে তারা দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রেমের জটিলতা থেকে এমন ধরনের ঘটনা সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।