ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুদ করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কৃষি সার জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খোচাবাড়ি বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘সোনালি ট্রেডার্স’ নামে একটি কীটনাশক ও কৃষি উপকরণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুদামে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সার মজুদ করে রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় গুদামের ভেতরে ইউরিয়া, পটাশ ও ফসফেটসহ মোট ৭৬৬ বস্তা সার পাওয়া যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সারের ক্রয় ও মজুদসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ কোনো ধরনের নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গুদাম থেকে সব সার জব্দ করা হয় এবং গুদামটি সিলগালা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া সার ক্রয়, মজুদ ও বিক্রয়ের অপরাধে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে সময়মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের পর দিন ঘুরেও সার না পেয়ে অনেককে বাড়তি দামে বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খোচাবাড়ি এলাকার কৃষক মমিন বলেন, “ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নেই, কিন্তু বাজারে গেলে বেশি দামে ঠিকই পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই কিনতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ইউএনও খাইরুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”