ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শহিদুল হক (মিরু মুন্সী) এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লাভলু মুন্সীসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় নেতা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ভাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির আয়োজিত যোগদান সভা ও উঠান বৈঠকে তাদের বরণ করে নেন ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এলাকায় অনেকেই আওয়ামী লীগ করেন, কিন্তু সবাই কি অন্যায় করেছেন? সবাইকে তো বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া যায় না। যারা অন্যায় করেছে, তারা পালিয়ে গেছে বা গর্তে লুকিয়েছে।”
বিএনপি প্রার্থী বাবুল বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ এবং কোনো রাজনৈতিক অন্যায়-অনিয়মে জড়িত ছিলেন না, তাদের রাজনৈতিক মত পরিবর্তনকে তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন। শহিদুল হকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “তার সম্পর্কে আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ বলেনি তিনি দলের নামে কোনো অন্যায় করেছেন। একটি অভিযোগ থাকলেও আমি তাকে গ্রহণ করতাম না—এটা আমার নীতি।”
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা প্রকৃত অপরাধে যুক্ত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে সরকারবিরোধী সমালোচনা করে বাবুল দাবি করেন, ১৭ বছরে ফরিদপুরে উন্নয়নের নামে শুধু কথার ফুলঝুরি হয়েছে। গোপালগঞ্জে বিভাগ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় হলো কিন্তু এই জেলার জন্য কিছুই করা হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে, ভাঙ্গা মহিলা কলেজকে সরকারি করা হবে এবং ভাঙ্গায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, নতুন যোগদানকারী সহিদুল হক, যুবলীগ নেতা লাভলু মুন্সীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।