পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামনে এনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে রাজাকারের তুলনা হয় না, এই লড়াই আদর্শের এবং ইতিহাসের।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজীরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে শহিদুল আলম বলেন, ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল, যারা এ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় না।

তিনি দাবি করেন, রাজাকারদের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাই এ ধরনের শক্তিকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে তার বক্তব্যে সমর্থন জানায়।

ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে বিএনপি প্রার্থী বলেন, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভোট চাইছেন। তার দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কমবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হলে জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে শহিদুল আলম বলেন, নির্বাচিত হলে বাউফলে কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রভাব আর থাকবে না। তার ভাষায়, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবুও তিনি রাজনৈতিক সম্প্রীতির পক্ষে বলে জানান। ভালো মানুষ যে দলেরই হোক, তাদের গ্রহণ করা হবে—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের শত্রুদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ শহিদুল আলমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।