গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরে পাঁচ দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের জোড় ইজতেমা শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে তিন মুসল্লির মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুরা-ই-নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানার আব্দুল হাকিমের ছেলে আশরাফ আলী (৬০) ইজতেমার ময়দানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার জানাজা বাদ জোহর মসজিদে সম্পন্ন হয়।

এর আগে শুক্রবার ভোরে নোয়াখালী সদরের আন্ডার চর এলাকার মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে মো. নুর আলম (৮০) মারা যান। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ট্রোক করলে সঙ্গে থাকা মুসল্লিরা তাকে হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

দুপুর দেড়টার দিকে জুমার নামাজের সময় জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার বগাড়পার এলাকার বাসিন্দা চাদ মিয়া (৬০) স্ট্রোক করে মারা যান। সাথীরা দ্রুত তাকে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, “ইজতেমার ময়দানে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চাপের কারণে অসুস্থতার ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেষ্ট, তবে বয়স ও পূর্বপ্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে।”

ইজতেমা ময়দান পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে। মুসল্লিরা ছাউনিতে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এভাবে দুই দিনে তিনজন মুসল্লির মৃত্যু ইজতেমার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় উজ্জ্বল করেছে। আয়োজনকারী কমিটি বলেছে, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মৃদু অসুস্থতা তাত্ক্ষণিকভাবে সনাক্ত করা যায়।