ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর অঞ্চলের উপপরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা) বাবু লাল বৈদ্য জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকেই রাজধানীর সদরঘাটসহ দেশের বিভিন্ন নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে নদীপথে দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কমে গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিআইডব্লিউটিএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব যাত্রীবাহী লঞ্চ বা নৌযান ইতোমধ্যে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, তাদেরকে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী নিরাপদভাবে চলাচল ও প্রয়োজন হলে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নোঙর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব নৌযানকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের দিকে সদর উপজেলার হরিনা এলাকায় ঢাকাগামী দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাঝনদীতে ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে।

এই ঘটনার পর নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ওঠে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান শীত মৌসুমে কুয়াশা আরও ঘন হলে এ ধরনের সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়মিতই নেওয়া হতে পারে।