তুচ্ছ কথাকাটাকাটি থেকে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি গ্রামীণ বিরোধ। ‘চোর বলা’কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দুজন। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। গ্রামের তদরিছ সরদারের ছেলে সাইদুর রহমান ওরফে বাংলা এবং আলী সরদারের ছেলে শাহিনুর রহমানের মধ্যে ‘চোর’ বলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি দ্রুতই দুই পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকেলের মধ্যেই পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে গড়ায়।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর শাহিনুর রহমানের চাচা ইসলাম উদ্দিন (৫৫) টানাখালী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাজ্জাদ মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাকে আটকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠে। পরে খবর পেয়ে ইসলাম উদ্দিনের ভাই ও ভাতিজারা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারধরের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইসলাম উদ্দিনসহ আহতদের দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসলাম উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আজিমুল হক ও এক ভাতিজা আহত হন। অবস্থার অবনতি হলে আজিমুল হককে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত আজিমুল হক অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে আটক করে মারধর করা হয়েছে। এই মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।