পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজের ঘরেই নৃশংসভাবে খুন হলেন মুকুল বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূ। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা, যা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মুকুল বেগম ছিলেন হাফেজ হাবিবুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের ২০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। ঘটনার সময় হাবিবুর রহমান পার্শ্ববর্তী মৌলভী তবক সুলতান মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদে ইমামতি করছিলেন। দুপুরে খাবার শেষে তিনি মসজিদে গিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যার আগেই নামাজ পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মুকুল বেগম একাই ঘরে অবস্থান করছিলেন।
রাতের দিকে প্রতিবেশী এক নারী কোনো কারণে তাদের ঘরে গিয়ে দেখেন, মুকুল বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে কলাপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা এখনো পরিষ্কার নয়। পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের মোটিভ যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।
অপরদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সবাই জানতে চাইছে কেন এবং কীভাবে একজন নারী নিজের ঘরে এভাবে প্রাণ হারালেন। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।