কক্সবাজারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ওপর।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যৌথবাহিনীর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, বরং সব ভোটকেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যায়, সে লক্ষ্যে একাধিকবার মহড়া ও রিহার্সাল সম্পন্ন করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সেনাবাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্প এলাকায় টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপয়েন্ট, ফেন্সিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে এবং ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এপিবিএন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুপতা জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ ৫৯ জন অপরাধী এবং ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক সামগ্রী।

যৌথবাহিনীর কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে কক্সবাজারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।