কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার শেরকান্দি এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রেললাইনের ধারে বসবাসকারী চারটি অসহায় পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে তাদের বসতঘর, জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যান, গবাদিপশু ও ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র। নিমেষেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও ভ্যানচালক পরিবারগুলো।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন জহুরা খাতুন (৬৫)। তিনি মৃত কিয়ামুদ্দিন শেখের স্ত্রী। এরই মধ্যে দুই ছেলেকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। নাতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে টিনের একটি ঘরে বসবাস করতেন। শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ আগুনে তার শেষ সম্বলটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহুরা বলেন, “মানুষের সাহায্যে কোনোমতে চলতাম। আগুনে আমার সব শেষ। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই।”
স্থানীয়রা জানান, জহুরা খাতুন ছাড়াও তার ভাতিজা ভ্যানচালক কামাল হোসেন, তার ছেলে হৃদয় হোসেন (২২) এবং প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের বসতঘর আগুনে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে দুইটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান, চারটি ছাগল, ৯টি হাঁস, ৩৫টি মুরগিসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হৃদয় হোসেন বলেন, “রাত একটার দিকে সব ঠিকঠাক দেখে ঘুমিয়েছিলাম। হঠাৎ আগুনের শব্দে ঘুম ভেঙে দেখি সব জ্বলছে। প্রাণ বাঁচাতে কিছুই বের করতে পারিনি।” একই রকম অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন নাজিম উদ্দিনও। তিনি জানান, সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের লিডার আলী হোসেন জানান, রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।