বরগুনার আমতলীতে পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) গভীর রাতে ঘটনা ঘটে এবং এর পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনে আরও কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় অনুযায়ী তারা হলেন আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. আতাউর রহমান রাসেল (২৯), গুলিসাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. পারভেজ খান (২৮), পৌর যুবলীগ সদস্য মো. তম্ময় গাজী (৩৩), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. কাওছার আহমেদ রনি (৩৩) এবং সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মো. ছগির মল্লিক (২৩)।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও স্থানীয়দের বর্ণনায় এসব ব্যক্তিদের ‘সন্দেহজনক উপস্থিতি’ ছিল বলে জানা যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমতলী ফেরিঘাট-সংলগ্ন সড়কের পাশে স্বর্ণা পরিবহনের একটি বাস রাতের বেলায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করে অজ্ঞাত কয়েকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুন বাসের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যেহেতু বাসটি রাতের বেলায় খালি অবস্থায় ছিল, তাই কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ বলছে, অগ্নিসংযোগটি পূর্বপরিকল্পিত কিনা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থেকে করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। জব্দ করা বাসটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আমতলী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর এলাকাজুড়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।