মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর সাইফুল ইসলাম মুন্সী (২৩) নামের এক যুবকের মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সূর্যমনি কাজী বাড়ির পিছনের পুকুরে ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সাইফুল কালকিনির খাসেরহাট ইউনিয়নের স্ন্যানঘাটা গ্রামের শামসুল হক মুন্সীর ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তিন বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। পরিবার, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১২ নভেম্বর এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে জরুরি প্রয়োজনে সাইফুলকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজে না পেলেও থানা পুলিশের কাছে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার ভোরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। কাছে গিয়ে চিনতে পারেন এটি নিখোঁজ সাইফুলের লাশ। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ উদ্ধার করে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, “নিখোঁজের পর দুই দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। তারা থানায় জিডিও করেনি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, সাইফুল শান্ত-স্বভাবের ছেলে ছিলেন এবং তার কোনো শত্রু নেই বলেই তারা জানেন। তবে ফোনে ডেকে নেওয়ার পর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং দুই দিন পর লাশ পাওয়া এ ঘটনাকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে পরিবার ও এলাকাবাসী। পুলিশের পক্ষ থেকেও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।