সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ও এনায়েতপুর থানায় পৃথক অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক ঘটনায় কৃষকের গোয়ালঘরে আগুন লেগে পাঁচটি গরু পুড়ে মারা যায়, অন্য ঘটনায় ভস্মীভূত হয় একটি শাড়ি প্রিন্ট কারখানা। উভয় জায়গাতেই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মাঠপাড়া এলাকায় সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানের গোয়ালঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোয়ালঘর। আগুন থেকে বের হতে না পেরে তিনটি গর্ভবতী গাভী, একটি ষাড় এবং একটি বাছুরসহ মোট পাঁচটি গরু পুড়ে মারা যায়। আহত হয় আরও দুটি গরু।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বহু বছরের লালন-পালনের পর বড় আশা নিয়ে গরুগুলো পালন করছিলেন। আগুনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার ফাইটার হাসান আলী জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকেই কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভোরে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপালপুর গাবতলা এলাকায় সেরাজুল ও বাবু মল্লিকের মালিকানাধীন ‘বিসমিল্লাহ ডিজিটাল শাড়ি প্রিন্ট’ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফজরের নামাজের পর স্থানীয়দের চোখে পড়ে কারখানা থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। খবর পেয়ে বেলকুচি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনে কারখানার বিপুল পরিমাণ কাপড়, চারটি শাড়ি প্রিন্টিং মেশিন, কম্পিউটার, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। বেলকুচি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ শহিদুর রহমান জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
উভয় অগ্নিকাণ্ডে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।